226

মানবনে নাকি ভাঙবনে

সরিাজুল ইসলাম চৌধুরী

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর লখো কবতিাগুলো আমার তো নয়ই, কারোই পড়ার কথা ছলি না। ওগুলো সে লখিছেলি ব্যক্তগিত দনিলপিরি অংশ হসিাব,ে তার খরেো খাতায়, গণতি ও বজ্ঞিানরে বষিয়ে লখোর ফাঁকে ফাঁক।ে অল্প কয়কেটি রচনা, পড়তে পারলাম সে আজ নইে বল।ে পড়ে তার সঙ্গে জানাশোনা ঘটলো এবং নতুন করে দুঃখ জগেে উঠলো তার জন্য। সে যে চলে গছেে সটো তো আমরা জানতাম, সতরেো বছররে কশিোর আঠারো বছরে পা দয়োর আগইে হঠাৎ করে চলে গলে। রোগে নয়, র্দুঘটনাতওে নয়। অত্যন্ত সুস্থ ছলি এই কশিোর, তার আপনজন ও বন্ধুরা সবাই বলছেে স-েকথা। উৎসাহ ছলি লখোপড়ায়। দুরন্তপনা ছলি না এতটুকু। গান শখিতো, ছবি আঁকতো, নয়িমতি যতে যে নারায়ণগঞ্জে তার বংশানুক্রমকি বসবাস সইে শহররে অতপিরচিতি গ্রন্থকন্দ্রে, সুধীজন পাঠাগার।ে এক বকিলেে সইে পাঠাগারে যাচ্ছলি এই কশিোর, পরীক্ষায় যে অত্যন্ত ভালো ফল করছে,ে যে অপক্ষোয় ছলি উচ্চশক্ষিা লাভরে। ত্বকী যাচ্ছে বই আনত,ে পথ থকেে র্দুবৃত্তরা তাকে অপহরণ করে নয়িে গলে। তার আর বাড়ি ফরো হলো না।
দু’দনি পরে তার মৃতদহে ভাসতে দখো গলে আমাদরে সবার চনো শীতলক্ষ্যা নদীর শীতল পানতি।ে তার মাথায় যারা আঘাত করছে,ে শ্বাসরোধ করছেে মঝেতেে ফলে,ে থঁেতলে দয়িছেে তার দহেরে অঙ্গ। তারা জানতো তারা কী করছ,ে কনে করছ,ে কন্তিু তাদরে হাত কাঁপনে,ি কশিোরটরি র্আত চৎিকারে তারা এতটুকু বচিলতি বোধ করনে।ি তারা নশ্চিতি ছলি তাদরে ক্ষমতার বষিয়,ে য-েক্ষমতার উৎসটা রাজনতৈকি এবং রাজনতৈকি বলইে তা অপরমিয়ে। জানতো তাদরে শাস্তি হবে না। শাস্তি হয়ন।ি শাস্তি হবে কী, তারা ধরাও পড়নে।ি অথচ সবাই জানে ওরা কারা। সবচয়েে বশেি জানবার কথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী র্কতৃপক্ষরে। তারা যে অজ্ঞ তা মোটইে নয়। তারা দখেওে দখেে না, শুনওে শোনে না।
ত্বকীর সঙ্গে আমার দখো হয়ন।ি হয়তো হতো ভবষ্যিতরে কোনো অনুষ্ঠান,ে কোনো সভাত,ে যমেন তার পতিা রফউির রাব্বরি সঙ্গে হয়ছে,ে বহুবার, বভিন্নি উপলক্ষ।ে ত্বকীর মৃত্যুর পরওে হয়ছে,ে কয়কেবার। পতিাকে দখেে পুত্র সর্ম্পকে একটা ধারণা পাওয়া যায়। পতিা রাজনীতসিচতেন, সংস্কৃতমিনা, গভীরভাবে দমেপ্রমেকি। পতিার আছে অঙ্গীকার, পুত্ররেও ওই পথইে এগুবার কথা।
এই কশিোররে নজিরে জগতরে সঙ্গে জানাশোনা ঘটে তার লখোগুলো পড়ল।ে সে নশ্চিয়ই চাইতো না এগুলো আমরা পড়।ি কছিুতইে রাজি হতো না দখেতে দতি।ে সলজ্জ হাসতিে বলতো, না না, এগুলো আপনাদরে জন্য নয়। মনে মনে ভাবতো যদি পড়বার মতো কছিু লখিি তখন দবেো আপনাদরে পড়ত।ে কন্তিু কবতিাগুলো পড়বার মতো বকৈ।ি একাধকিবার পড়বার আগ্রহ হয়। যমেন আমার হয়ছে।ে ছোট ছোট রচনা, সরল এবং সুন্দর।
সন্তুষ্ট ছলি না। খরেো খাতাতইে লখিছেে স,ে যে সে লখিব।ে প্রবন্ধ লখিব,ে গল্প লখিব,ে ভালো লখিব।ে কবতিা দয়িে যাত্রা শুরু করছে;ে কন্তিু সখোনে থমেে থাকবে না, আরো এগয়িে যাব।ে অঙ্গীকার করছেলি সে নজিরে কাছ।ে অন্য অঙ্গীকাররে কথাও লখিছেে সে তার ওই খরেোখাতাত।ে দখেছেি আমরা। সগেুলো হচ্ছে ধ্যান, পড়াশোনা, গান, লখোলখে,ি সমাজ। ওইসব নয়িইে তার জগৎটা গঠতি। সংবদেনশীল, সতজে, দায়ত্বিবোধে উদ্দীপ্ত এক কশিোররে স্বপ্নরে ভুবন। ছাত্র হসিাবে অত্যন্ত মধোবী- খুব ভালো ফল করছেে পরীক্ষায়। কন্তিু কবেল নজিকেে নয়িে ব্যস্ত থাকার পাত্রটি সে নয়। লখিতো এবং ভাবতো, ভাবনা ছলি সমাজকে নয়ি।ে
ত্বকী চলে গছে।ে যারা তাকে হত্যা করছেে তাদরেকে সে অভযিুক্ত করছেে তো বটইে, অভযিুক্ত করে গছেে আমাদরেকওে, আমরা যারা তাকে বাঁচাতে পারনি,ি যারা তার হত্যাকারীদরেকে বচিাররে অধীনে আনতে পারি ন।ি ত্বকীর পতিামাতা বলছেনে ছলেটেি কখনো বায়না ধরতো না, মুখ ফুটে কছিু চাইতোও না। সে না চাইলওে আমাদরে তো দায়ত্বি ছলি, আমরা যারা বয়স্ক, যারা তার এবং বাংলাদশেরে সকল কশিোর-কশিোরীর অভভিাবক, অন্য কোনো কারণে না হলওে অন্তত বয়স বশেি বলে তো নশ্চিয়ই।
এই কশিোররে নজিস্ব ভুবনরে খবর পাচ্ছি তার লখোগুলোত,ে মৃত্যুর দু’তনি মাস আগে যগেুলো সে লখিছে।ে তার জগতে স্বাভাবকি সত্য হচ্ছে জন্ম, মৃত্যু এবং ভয়। সঙ্গে আছে নজিস্ব কছিু অনুভ‚ত-ি সাম্যরে প্রতি আর্কষণ এবং প্রতবিাদরে ব্যাপারে আগ্রহ। ‘প্রত্যার্বতন’ নামে কবতিায় ত্বকী লখিছে,ে
আরও একবার আমি মানুষ হয়ে মরব,
উত্থতি হতে নষ্কিলঙ্ক ফরেশেতাদরে পাশ:ে
অন্যত্র, চার লাইনরে ‘প্রস্তরখÐ’ কবতিায় বলছ,ে
আমি প্রস্তর হয়ে মরলাম উদ্ভদি হতে
উদ্ভদি হয়ে মর,ি তো উত্থতি প্রাণে
মানুষ হয়ে উঠলাম পর,ে যখন সত্য উদ্ভাসতি হল
ভয় কসিরে? দ্বধিা কনে মৃত্যুত?ে
দ্বধিা কনে মৃত্যুত?ে এ কী কোনো র্পূবানুভ‚ত?ি তার নজিরে মৃত্যুর? অত্যাসন্নরে ছায়াপাত নজিস্ব সংবতি?ে না, তা মনে হয় না। তার কাছে মৃত্যু মানসকি। সটো যনে অমানবকিতার হাত থকেে অব্যাহত,ি অসর্ম্পূণতার বন্ধন থকেে মুক্ত,ি যনে মানুষ হয়ে ওঠার র্শতপূরণ। তার চন্তিায় মানুষ হয়ে ওঠার বষিয়টা ঘুরে ফরিে এসছে।ে ‘বর্বিতন’ নামরে তনি লাইনরে কবতিাটতিে সে লখিছ,ে
মাটরি সাথে বাস-করা এক পঁিপড়ে
হঠাৎ একদনি উঠে দাঁড়াল
ইচ্ছে তার মানুষ হব।ে
মানুষ হতে উঠে দাঁড়াতে হয়। নতমানুষ মানুষ নয়। কন্তিু প্রতযিোগতিা? প্রতযিোগতিা তো চলছ।ে কশিোরটি তা দখে,ে কন্তিু মানে না। নজিে নজিইে বলে স,ে
মানব না
এই প্রতযিোগতিা,
বষিম খলো
অসুস্থতা
সে র্ফাস্ট হতে চায় না, চায় সবার সঙ্গ,ে এক সাথে চলব।ে তার গান বদ্বিষেরে নয়, ভালোবাসার। সে ভাবে সাম্যরে কথা, বলওে, ‘মানুষ চাই সমানে সমান’; তার স্বপ্ন ‘সমগ্র মানবজাতি এক কাতারে দাঁড়াব’ে। আর সইে সাম্যরে ফলে সমাজরে যে চহোরা দাঁড়াবে সে এরকমরে,
ঘরে ঘরে জ্বলে উঠবে
জ্ঞান-প্রীতরি আলো,
থাকবে না হংিসা বদ্বিষে
মানুষে সাম্য হবে
সকলইে এক হবে
সকলরে জ্ঞান হবে
আকাশ চ‚ড়ায়। [সাম্য]
বোঝা যায় যে শ্রণে-িবভিাজন সে মানে না। সে স্বপ্ন দখে,ে ব্যক্তদিরে উন্নতরি নয়, সমষ্টগিত অগ্রগতরি-
আমাদরে স্বপ্ন
মানুষ হওয়া-
দু’বলো খাওয়া-ই তো
সব নয়।
আছে মানুষ হয়ে
চলার স্বাদ,
সমান অধকিার
জ্ঞানে পথ চলার। [স্বপ্ন]
বার বার বলছে একা চলতে চায় না; চলবে সে সকলরে প্রশান্ততি।ে য-েবাস্তবতা তার প্রাণ কড়েে নয়িছেে তাকে সে জান।ে এরা ঘাতক। এদরে কারণে মানুষ ভয়রে মধ্যে জন্মগ্রহণ কর।ে এবং ওরা ভয় দখোতে চায়। সুন্দরকে এরা সহ্য করতে পারে না। তাকে হত্যা কর।ে রাজহাঁসগুলো এদরে জন্য বাঁচতে পারে না। এরা আল-বদর আল-শামস। এদরেকে সে ঘৃণা কর।ে শাহবাগরে যে তরুণরা একাত্তররে ঘাতকদরে বরিুদ্ধে অবস্থান নয়িছে,ে সে তাদরে সঙ্গে যোগ দবেে ভাব।ে পতিা বলছেনে নয়িে যাবনে। নতিে দরেি হচ্ছে দখেে ত্বকী বল,ে
লুকোচুরি খলেব বলে
চলে এলাম তোমার আগে
সংগ্রাম চলছে শাহবাগ।ে [লুকোচুর]ি
ঘাতক বাস্তবতা ক্ষুর্ধাত কুকুররে মতো শকিার খুঁজে বড়োয়। শকিার ধরতে পারলে নর্মিম হয়ে ওঠ।ে ঝাঁপয়িে পড়,ে সংহার ঘটায় প্রাণরে। বড় র্মমান্তকি স-েদৃশ্য। ত্বকীর আগ্রহ ছলি ছবি আঁকাত,ে অল্পকথায় জীবন্ত একটি ছবি এঁকছেে স।ে কবতিার নাম ‘এক ঝাঁক কুকুর’। কবতিাটি এরকমরে,
এক ঝাঁক কুকুর
একটা কুকুর
র্গজন করে ওঠে
এক ঝাঁক কুকুর
দৌড়ে এলো কাছে
দখেল একটা শকিার
ঝাঁপয়িে পড়ল
তাঁর কাঁধে
শষে করে দলি
… প্রাণ!
একাত্তরে ছলি রাজাকার আল-বদর, বয়িাল্লশি বছর পরওে তাদরে বংশধররো নশ্চিহ্নি ঞ্চ মুক্তযিুদ্ধরে চতেনা বহন করার ছদ্মাবরণে মুক্তকিামী মানুষদরে প্রাণরে ওপর আক্রমণ অব্যাহত রখেছে।ে প্রমাণ? প্রমাণ তো ত্বকীর নজিরে প্রাণ দান।
এই ঘাতকরা অন্যদরে ভয় দখোয়, তাই বলে তারা নজিরো যে সাহসী তা নয়। এদরে জোরটা রাজনতৈকি প্রশ্রয়রে; কন্তিু ভতেরে ভতেরে এরা সবাই মস্ত বড় কাপুরুষ। ‘ভয়’ নামরে এক কবতিায় ত্বকী এক ঘাতকরে কথা বলছে,ে
বনরে ভতেরইে
থাকে দনিকাল,
বাহরিতেে যায়নি সে
দখেনেি সকাল।
বনরে ভতেরে যত
পশু আর পাখি
আহার সকলই তার
কছিু নইে বাক।ি
সারা রাত জাগ,ে তবু
ভয়ে ভয়ে মর,ে
কখন না জানি হায়
বাঘ এসে ধর।ে
আমরা জানি ত্বকীর ঘাতকরা এককালে সংস্কৃতর্চিচার জন্য খ্যাত চমৎকার নদীবন্দরটকিে একটি আতঙ্করে জনপদে পরণিত করছেে এবং এটাও জানি যে যখন রাজনতৈকি আনুক‚ল্যরে অভাব ঘটে তখন ওই ভয়ঙ্কর রকমরে হংি¯্র র্দুবৃত্তরা লজে গুটয়িে পলায়ন করে এবং অপক্ষোয় থাকে অবস্থা কখন তাদরে জন্য নরিাপদ হবে তার জন্য।
ত্বকী লখিছেে এক শহুরে পাখরি কথা। সইে অচনি পাখটিি গ্রামে গয়িে শহরে যে সুখ আছে তার কথা অন্য পাখকিে শোনায়। গ্রামরে পাখটিকিে সে বলে তুমি শহরে চলে এসো, শহররে মানুষরে আচরণ তো বশে। ‘হথো তুমি যাও যদি থাকবে না ক্লশে।’ সব শুনে গ্রামরে পাখটিি শষে র্পযন্ত ঠকি করে গ্রাম ভালো নয়। ‘এখানে তো পরবিশে সুবধিরে নয়।’ ফলে
তখন থকেে হায়
বনমালী চায়
চলে যাবে শহরইে
থাকবে না গাঁয়।
চায় না; গ্রামে থাকতে চায় না মানুষ, এমন কি পাখরিাও শহর খােঁজ,ে গ্রামরে গাছপালা, ঝোপঝাড় খোলা আকাশকে ত্যাগ কর।ে শহররে মানুষ আরো বড় শহরে যতেে চায়। ত্বকীর আগরে প্রজন্মরে তরুণদরে ভতের যারা পরেছেে তারা চলে গছেে বদিশে,ে ত্বকীর নজিরে প্রজন্মরে তরুণরা তো এ ব্যাপারে একবোরইে অস্থরি। কথা উঠছেলি ত্বকীর বদিশে যাওয়া নয়ি।ে স্বল্পবাক কশিোরটি বলছে,ে না, সে যাবে না। মাকে বলছে,ে ‘তোমাদরে ছড়েে আমি কোথাও যাবো না, থাকতে পারবো না।’ সইে ত্বকীকে কোথায় পাঠয়িে ছলি র্দুবৃত্তরা।
ত্বকীকে তারা টাকার জন্য হত্যা করনে।ি সাধারণ র্দুবৃত্তরা সটো করে থাক,ে এই অসাধারণদরে চন্তিাধারা ছলি ভন্নিমুখী, একাত্তররে আল-বদরদরে মতোই। এরা চয়েছেে তাদরে জবরদখল, চাঁদাবাজি ও অবাধ দৌরাত্ম্যরে বরিুদ্ধে প্রতবিাদকারীদরে কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দতি।ে প্রতবিাদ যাঁরা করতনে তাঁদরে ভতের র্সবাগ্রগণ্য ছলিনে ত্বকীর পতিা রফউির রাব্ব।ি নারায়ণগঞ্জরে সব মানুষ তো সটো জানতো, খুব পরষ্কিারভাবইে জানতো র্দুবৃত্তরা। ত্বকীকে তারা হত্যা করছেে তার পতিার কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দবোর জন্য। পুত্র হারানোর দুঃসহ যন্ত্রণায় রাব্বি কাতর হয়ে থাকবনে, প্রতবিাদরে কাজে উৎসাহ হারয়িে ফলেবনে, এই ছলি আশা। ভয় দখোনোর অভসিন্ধটিাও ছলি। দখেো আমরা কতটা নর্মিম হতে পার।ি তোমার পুত্রকে সরয়িে দয়িছে,ি এরপরে তোমাকওে ছাড়বো না, যদি তুমি সাবধান না হও কপাল চাপড়ে বসে না পড়ো। রাব্বি অবশ্য মনোবল হারানন,ি আর হারাননি বলইে ত্বকীর লখো কবতিাগুলো পড়বার সুযোগ হয়ছে,ে তনিইি আমাকে দয়িছেনে, দয়িে আমাকে কৃতজ্ঞ করছেনে। রাব্বি নজিে পড়াশোনা করছেনে চারুকলায়, হাভানা থকেে উচ্চতর শক্ষিা নয়িে এসছেনে, ছবি আঁকতনে এক সময়,ে চত্রিশল্পি ও শল্পিকলার ওপর খুব ভালো দু’টি বই লখিছেনে। এককালে তনিি রাজনীতি করতনে, পরে প্রত্যক্ষ রাজনীতি থকেে সরে এসে সাংস্কৃতকি কাজে মনোযোগ দয়িছেনে। নারায়ণগঞ্জে সাংস্কৃতকি জীবনরে পুরোধা তনি।ি নাগরকি অধকিার রক্ষার আন্দোলনে নতেৃত্ব দতিে কখনো পছিপা হনন।ি নজিদেরে শহরটকিে সন্ত্রাসমুক্ত করার ব্যাপারে অগ্রণী ভ‚মকিা নয়িছেনে। লুণ্ঠনকারীদরে ছোট্ট গোষ্ঠীটি স্বভাবতঃই তাঁকে তাদরে জানরে দুশমন বলে জান।ে রাব্বকিে দমানোর জন্যই তো ত্বকীকে তারা হত্যা করছে।ে যুদ্ধাপরাধীদরে বচিাররে দাবতিে গঠতি স্থানীয় নাগরকি মঞ্চরে মূল সংগঠক ছলিনে রাব্ব;ি আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখনই ত্বকীকে হত্যা করা হয়ছে।ে যাতে দোষটা চাপানো যায় জামাত-শবিরিরে কাঁধ।ে সে চষ্টো সফল হয়ন,ি কনেনা ত্বকীর ঘাতকরো সকলরেই চনো, এবং ত্বকীকে হত্যা করার কারণটওি সবারই জানা। ত্বকীর সঙ্গে তার পতিার ছলি গভীর বন্ধুত্ব; পুত্র ও পতিার মতোই ছলি সৃষ্টশিীল ও অঙ্গীকারে আবদ্ধ।

ত্বকীর চল-েযাবার বয়সটা তো এক সময়ে আমারও ছলি। তার সঙ্গে আমার বশে মলি দখেতে পাই। ওই বয়সে আমওি ভারি পড়–য়া ছলিাম, পাঠাগার ছলি বনিোদনরে স্থান। টুকটাক লখোর চষ্টো করতাম। ত্বকী যমেন পরীক্ষা দয়িে ভাবতো ভবষ্যিতে কী করতে চায়, আমওি তমেনি ভাবতাম, যদওি সসেব কথা কোনো খাতাপত্রে লখিে রাখনি,ি যজেন্য ওর বয়সে চলে গলেে কউে জানতে পারতো না আমার ভাবনাগুলো কোন দকিে প্রবাহতি ছলি।
ত্বকীদরে তুলনায় আমাদরে জন্য কাজ করবার সুযোগটা ছলি বশে।ি ক্ষত্রেটা ছলি প্রশস্ততর। আমরা মলিতে পারতাম, সুযোগ পতোম মশিবার। হাতে লখো পত্রকিা বরে করছে,ি দওেয়াল পত্রকিা তরৈি করছে,ি তাতে লখিছে;ি পাড়ায় পাঠাগার গড়ছে,ি নাটক, সাহত্যিসভা, বচিত্রিানুষ্ঠান, বশিষে দবিস পালনÑ এসব করবার সুযোগ ছলি। বপিদ-আপদ ছলি নশ্চিয়ই। কন্তিু সমাজে এত ঘাতক ছলি না। আমরা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে যোগ দয়িছে,ি পুলশি নর্যিাতন করছে;ে কন্তিু পাড়ায় মহল্লায় এতটা নরিাপত্তাহীন ছলিাম না এখনকার তরুণরা যমেন রয়ছে।ে রাষ্ট্র শত্রæতা করছে;ে কন্তিু র্দুবৃত্তদরে লালনপালন করতো না এখন যমেন কর।ে
রাষ্ট্ররে শত্রæতার চরম প্রকাশ ঘটছেলি একাত্তর।ে বহুজন চলে গছেনে। পছেনে তাকয়িে নতুন করে মনে পড়ে যে আমওি চলে যতেে পারতাম। একে তো বাঙাল,ি তার ওপর রাষ্ট্রবরিোধী সাংস্কৃতকি কাজর্কমরে সঙ্গে যুক্ত; তালকিাভুক্ত ছলিাম যে পরে সটো জনেছে।ি বঁেচে গছেি ধরতে পারে নি বল।ে কন্তিু সে রাষ্ট্র তো এখন আর নইে। এ রাষ্ট্র তো আমাদরে। এর প্রতষ্ঠিার জন্য আমাদরে সময়রে মানুষরো র্সবােচ্চ মূল্য পরশিোধ করে দয়িছেনে। আশা ছলি পরর্বতী প্রজন্মকে আর কোনো মূল্য দতিে হবে না। তারা নরিাপদে থাকব।ে সহংিসতা যা তা পাকস্তিানি আমলইে শষে হয়ে গছে,ে এমনটাই ছলি ভরসা; কন্তিু দখো গলে তমেনটা ঘটনে।ি রাষ্ট্র কছিুটা বদলছে,ে অনকেটা বদলায়ন।ি যখোনে বদলায়নি সখোনে আগরে যে কোনো রাষ্ট্ররে চয়েে সে নষ্ঠিুর। অসংখ্য প্রমাণ আছ,ে একটি প্রমাণ ত্বকী হত্যা। আসামীরা চহ্নিতি; কন্তিু ধরা-ছােঁয়ার বাইর।ে পরর্বিতন মূলত ওপরকাঠামোত,ে ভতেররে ব্যবস্থা আগরে মতোই। চালু যন্ত্ররে বয়স বড়েছে,ে ফলে সে আগরে তুলনায় কম দক্ষ এবং তার নপিীড়ন অধকিতর যন্ত্রণাদায়ক।

আঠারো বছররে কথা এলইে আরকেজনরে কথা মনে পড়।ে কবি সুকান্ত ভট্টার্চাযরে। ত্বকীর সঙ্গে সুকান্তরে দুস্তর ব্যবধান। কন্তিু মলি আছে বয়স।ে দু’জনইে আঠারো বছররে তরুণ। ত্বকী আঠারোতে পৗেঁছাতে পারনে।ি সুকান্ত পৗেঁছে ছলিনে, বঁেচে ছলিনে একুশ বছর র্পযন্ত; তবে তাঁর লখোতে দীপ্তি ও জয়ধ্বনি যা’র সে ওই আঠারো বছররেই। ‘আঠারো বছর বয়স’ নামরে কবতিায় সুকান্ত লখিছেনে,
আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে
অবশ্রিান্ত! একে একে হয় জড়ো,
এ বয়স কালো লক্ষ র্দীঘশ্বাসে
এ বয়স কাঁপে বদেনায় থরো থরো।
সত্তর-পঁচাত্তর বছর আগে যে বদেনার কথা সুকান্ত লখিছেনে ২০১৩ সালে ত্বকীর জন্য তা মথ্যিা ছলি না। কন্তিু সুকান্ত ভয় পানন,ি জানয়িছেনে, তাঁর ওই কবতিাতইে,
এ বয়সে জনেো ভীরু, কাপুরুষ নয়
পথ চলতে এ বয়স যায় না থমেে
এ বয়সে তাই নইে কোনো সংশয়Ñ
এদশেরে বুকে আঠারো আসুক নমে\ে
ভন্নিভাবে ও সুরে ত্বকীও একই কথা বলে গছেে তার লখোগুলোর মধ্য দয়ি।ে একটি অসুস্থ সমাজে সুকান্ত জন্মছেলিনে, তুলনায় ত্বকীর সময়টা ছলি আরো ভয়ঙ্কর। সুকান্ত চলে গছেনে অদৃশ্য ক্ষয় রোগে আক্রান্ত হয়ে আর ত্বকীকে প্রাণ দতিে হলো ঘাতকদরে সশস্ত্র আক্রমণ।ে সুকান্ত তাঁর সমাজটাকে বদলাতে চয়েছেলিনে। স্বপ্ন দখেছেনে বপ্লিবরে, বলে গছেনে, ‘বপ্লিব-স্পন্দতি বক্ষে মনে হয় আমইি লনেনি।’ নতুন সমাজরে স্বপ্ন ত্বকীও দখেতো, সইে স্বপ্ন চোখে নয়িইে চলে গলে, র্পূবসূরি সুকান্তরে মতোই।
অষ্টাদশ শতাব্দীর শষে দকিে এক কশিোররে জন্ম হয়ছেলি ইংল্যান্ড।ে নাম টমাস চ্যাটারটন। তাঁর মধো ছলি অসাধারণ। কবতিা লখিছেনে চাঞ্চল্যকর। কন্তিু বাঁচতে পারনেন,ি আঠারোতইে চলে গছেনে। না, কউে তাঁর গায়ে হাত দয়েন;ি দুঃসহ দারদ্র্যি ও হতাশায় র্জজরতি হয়ে র্আসনেকি খয়েে তনিি আত্মহত্যা করছেনে। আত্মহত্যাও তো হত্যাকাÐই। সমাজই তাঁকে হত্যা করলো, অদৃশ্য হস্তক্ষপে।ে
এ ধরনরে সকল দৃষ্টান্তই অভন্নি এক সত্যরে মুখোমুখি আমাদরেকে দাঁড় করয়িে দয়ে। সটো এই যে বাঁচতে হলে যে ব্যবস্থা মানুষরে সঙ্গে শত্রæতা করে তাকে ভাঙতে হব।ে ত্বকী নতুন করে স্মরণ করয়িে দয়িে গছেে আমাদরেকে যে আমরা যে সামাজকি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভতের জীবনযাপন করছি সটো আর যা-ই হোক মানবকি নয়। জজ্ঞিাসা রখেে গছেে আমরা যারা বয়স্ক তাদরে কাছে : আপনারা কি ওকে মানবনে নাকি ভাঙবনে। অনবর্িায এক জজ্ঞিাসা।

লখেক : শক্ষিাবদি, ইমরিটিাস অধ্যাপক, ঢাকা বশ্বিবদ্যিালয়