253

ত্বকীর জন্য এই অচলায়তন ভাঙ্গতে হবে

সয়ৈদ মনজুরুল ইসলাম

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে আমি কখনো দখেনি,ি তার পরবিাররে সঙ্গওে কোনো পরচিয় ছলি না। সে বড় হয়ছেে নারায়ণগঞ্জ,ে যে শহরটি একসময় – ত্বকীর জন্মরে বহু আগ-ে আমার খুব প্রয়ি ছলি, নানান অনুষ্ঠানে কয়কে বার গয়িে যার সাংস্কৃতকি জীবনকে ভালো লগেছেলি, যদওি একসময় কছিু সন্ত্রাসীর দখলে শহরটি চলে যাওয়ায় আর সখোনে যতেে ইচ্ছে হত না, এমনকি সুধীজন পাঠাগাররে টানওে। কন্তিু অনকে বছর পর একটি স্তব্ধ করে দয়ো সংবাদ আমাকে আবার সইে শহরটতিে ফরিয়িে নয়িে গলে। সংবাদটি ত্বকীর নর্মিম হত্যাকাÐরে। এবং যে সন্ত্রাসীরা শহরটকিে সন্ত্রাসরে জনপদ হসিবেে পরচিতি করয়িছেলি সারা দশে,ে ঘুর-েফরিে তাদরে নামই মডিয়িাতে উচ্চারতি হতে থাকল ত্বকীর হত্যাকারী হসিবে।ে আমার মনে হয়ছেে ত্বকীদরে মতো রুচশিীল, সুস্থ এবং বাঙালি সংস্কৃতরি মূল্যবোধে আস্থাশীল পরবিার থকেে উঠে আসা মধোবী কশিোর-তরুণদরে জন্য নারায়ণগঞ্জ বোধ করি এখন সবচয়েে ভয়ানক একটি জায়গা। এই সন্ত্রাসী পরমিÐলে ভুল সময়ে বড়েে ওঠাই কি কারণ ছলি ত্বকীর এই অবশ্বিাস্য চলে যাওয়ার?
একটি সভ্য সমাজ কি এই হত্যাকাÐরে পর নজিকেে সভ্য দাবি করতে পার?ে নাকি এ সমাজ এখনও তরৈি হয়নি ত্বকীর মতো সুন্দর একটি কশিোরকে জায়গা দয়োর জন্য?
ত্বকীর ছবি দখেছেি পত্রপত্রকিায়, তার ছোট্ট জীবনরে নানা ঘটনার র্বণনা শুনছে,ি তার লখো ডায়রেরি ছাপানো পাতা পড়ছে,ি তার ছোট ভাইটি এবং বাবা মায়রে সঙ্গে তার ছবরি অ্যালবাম দখেছে,ি আর চোখরে পানি ফলেছে।ি মনে হয়ছে,ে ত্বকীকে যনে কতকাল থকেে চনি।ি কী মননশীল এবং প্রত্যয়ী একটি কশিোর, দশেকে নয়ি,ে সমাজকে নয়ি,ে মানুষকে নয়িে কী সুন্দর তার ভাবনা! না জানি কত অমূল্য দানে ত্বকী সমৃদ্ধ করতে পারত দশেটাক,ে র্স্পশ করতে পারত তার মতো স্বপ্ন দখো আরো অসংখ্য কশিোরক।ে কন্তিু বছেে বছেে এই মধোবী আর অমতি সম্ভাবনাময় কশিোরটকিইে অন্ধকাররে কছিু মানুষ বছেে নলি তাদরে জঘিাংসা মটোবার জন্য। তাদরেকে জজ্ঞিসে করতে ইচ্ছে হয়, তারা অথবা তাদরে ভয়ানক হয়ে বড়েে ওঠা সন্তানরো কি ত্বকীর ধারে কাছে আসার যোগ্যতা রাখ,ে নাকি তারা কোনোদনি ত্বকীর একটি গুণও র্অজন করতে পারব?ে আমি জানি অনুশোচনা অথবা আত্মশুদ্ধি এদরে অভধিানে কখনো জায়গা পায়ন।ি পলেে তো অনকে আগইে, ত্বকীকে অত্যাচার করার জন্য উত্তোলতি হাত তাদরে কাঁপতো।
ত্বকীর বাবা রফউির রাব্বরি সঙ্গে পরচিয় হয়ছেে এরপর। একজন ভাঙ্গাবুক মানুষ এখন একটা সংগ্রামে নমেছেনে, ত্বকী হত্যার বচিার চয়ে,ে ত্বকীর মতো আর কাউকে যনে সন্ত্রাসীরা তাদরে শকিারে পরণিত করতে না পার-ে সইে উদ্দশ্যে।ে তনিি ত্বকী মঞ্চ তরৈি করছেনে। ত্বকী মঞ্চরে দু’একটি আলোচনা সভায় গয়িছে।ি ক্ষোভরে কথাগুলি বলছে,ি কন্তিু এও বুঝতে পরেছে,ি যে অন্ধকাররে বরিুদ্ধে ত্বকী মঞ্চরে সংগ্রাম, সটেি এমনই র্সবগ্রাসী যে এর বপিরীতে একটা নতুন র্সূযােদয়রে প্রতীক্ষাতে কটেে যতেে পারে বহু মাস বছর। অবাক হয়ে দখেছে,ি হত্যাকারী কে বা কারা, হত্যাকাÐ কোথায় হয়ছেলি, কখন হয়ছেলি- সসেব বষিয় স্পষ্ট হলওে আইনরে হাতটা অপরাধীদরে দকিে অগ্রসরই হতে পারছে না। রাষ্ট্র নর্লিপ্তি, দল সন্ত্রাসীদরে পক্ষ।ে এ অবস্থায় চোখ ঢাকা আইনরে প্রতমিা কাঁদতইে পারনে শুধু। কন্তিু অন্ধকাররে অচলায়তন তো ভাঙতে হব।ে তা না হলে ত্বকীদরে আমরা চরিতররে জন্য হারাবো।
ত্বকীর ছবরি দকিে যতবার তাকাই, ভবষ্যিৎ বাংলাদশেকে দখেি আম,ি যে বাংলাদশে আত্মবশ্বিাসী, মধো ও মননে সমৃদ্ধ এবং অসম্ভবরে স্বপ্নে বভিোর। ত্বকীও স্বপ্ন দখেত, তার স্বপ্নে ছলি দশে। এখন দশেটা স্বপ্ন দখেবে তাকে নয়ি,ে কভিাবে তাকে বুকে ধারণ করে তারই দখোনো পথে তা অগ্রসর হব।ে
ত্বকী সর্ম্পকে টুকরো টুকরো কথা, তাকে নয়িে তার মার স্মৃতচিারণ, তার বন্ধুদরে নানা ঘটনার র্বণনা থকেে তার একটা যে প্রোফাইল আমি সাজাতে পরেছে,ি তাতে একদকিে একটা গৌরবরে ছব,ি অন্যদকিে বদেনার একটা ছায়া। গৌরবটা ত্বকীর নানা র্অজনরে, ত্বকীর ত্বকী হয়ে ওঠার; বদেনাটা তাকে অকালে হারানোর। ত্বকীর খুনরিা শুধু তাকইে পৃথবিী থকেে সরয়িে দয়েন,ি একই সঙ্গে প্রশ্নবদ্ধি করছেে মানুষরে ওপর মানুষরে বশ্বিাসক,ে শ্রয়েবোধ এবং সত্যরে ও সুন্দররে প্রতি আস্থাক।ে এসবকে ফরিয়িে আনতে হব,ে এবং এজন্য প্রয়োজন ত্বকীর সৌরভ সবখানে ছড়য়িে দয়ো। ত্বকী মঞ্চ কাজটি শুরু করছে,ে কন্তিু কাজে নামতে হবে আমাদরে সকলকইে।
আমি বশ্বিাস কর,ি তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী চলে গলেওে সে আছ,ে সবখানইে আছ।ে শুধু মায়রে অস্তত্বিজুড়ে নয়, বাবার ভালোবাসাতে নয়, ব্যথাতুর বন্ধুদরে স্মৃততিে নয়, সে আছে প্রতটিি ববিকেবান মানুষরে মনরে ভতের,ে প্রতটিি শ্রয়েবোধসম্পন্ন মানুষরে চন্তিায়। ত্বকী এখন একটি আর্দশরে নাম, একটি অনুপ্ররেণার নাম, যা বাংলাদশেকে আলোকতি করব,ে অচলায়তন ভাঙার উৎসাহ ও বশ্বিাস জোগাব।ে
ত্বকীকে একবার আমারা হারয়িছে।ি কন্তিু তার কথা ভবেে যদি আমরা অন্যায়রে বরিুদ্ধে দাঁড়াই, সন্ত্রাস এবং অবচিাররে বরিুদ্ধে দাঁড়াই- এবং সকলে মলিে দাঁড়ালে আমরা জয়ী হবই- ত্বকীকে তখন আর হারাতে হবে না।

লখেক : অধ্যাপক, ইংরজেি বভিাগ, ঢাকা বশ্বিবদ্যিালয়, লখেক