205

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী’র কবতিা

                             একজন শহীদরে ময়নাতদন্ত

                             ওরা প্রাণী হত্যা করে

যা মানুষ কর।ে
ওরা ছুরি ও
ধারালো অস্ত্রদয়িে
দ্বখিন্ডতি করে কন্ঠনালী,
ওরা উল­াসে দখেে
কভিাবে শরীর থকেে
বৃষ্টরি মতো রক্ত গড়ায়Ñ
ধারালো অস্ত্র দয়িে
শরীররে চামড়া ছলিে নয়ে,
এবং দখেে ভতেররে মাংসপশেী ও হাড়গোড়।
ওরা টুকরো টুকরো করে হাড়গোড়,
খন্ড বখিন্ড করে ফলেে
বীভৎস উল­াস।ে
এই সব হাড়গোড় শরীরে জড়য়িে
জানান দয়ে নজিদেরে সাহসকিতা,
স্মারক চহ্নি করে
ঝুলয়িে নয়ে গলায়Ñ
ওরা সইে সব মৃত মানুষরে মাংস খায়
র্ববর অন্ধকার যুগে যমেনি মানুষখকেোরা
ভক্ষণ করছেে তাদরে স্বজাতকিÑে
ওরা
অন্ধকাররে পশু
হত্যা করে জীবন
হত্যা করে সমাজ
ওরা হত্যা করে
কারণ মৃতরে রক্তমাখা হাড়গোড়
ওদরে ভূষণ।
ওরা রাইফলেরে গুলি ছুড়ে
হত্যা করে স্পন্দতিজীবন
যাতে
স্পন্দনরে শব্দ প্রতবিাদ হয়ে উঠতে না পারে
ওরা রাইফলেে ট্রগিার টপিে
প্রতবিাদরে চৎিকারকে স্তব্ধ করে দতি,ে
হাড়গোড় শরীরে জড়ায়;
ওরা হাড়গুলোয় সজোরে
আঘাতরে পর আঘাত করে চলে
যাতে ঐ হাড়গুলো দহেধারণ করে
জগেে উঠতে না পারÑে
এইসব রূপান্তরতি হাড়গোড় ওদরে ভূষণ,
ওরা স্তব্ধ করে দতিে চায় জীবনরে স্পন্দন,
পরধিানে
দহেরে অস্থি ব্যবহার কর,ে
ধারালো অস্ত্র দয়িে
হত্যা করে জাতরি শ্রষ্ঠেসন্তান,
ওরা মানুষরে রক্ত ভালোবাসে
এবং মানুষরে হৃদয়কে বষিয়িে তোলে
বকিৃত করে
সমাজ আর নষ্কিলুষ মানুষরে;ে
ওরা ভয় দখোতে চায় আদমি হংিস্রতায়!

ফরিে এসো বাংলাদশে

                                                       তাঁরা বঁেচে আছে

স্বাধীনতার ৪১ বছর পরওে
একটি নতুন যুগ,
একটি নতুন সময়,
যখোনে ঘৃণা অপমান নইে
সইে সব জীবন
যখোনে উন্মত্ত হবে না কউে কাউকে
হত্যার জঘিাংসায়,
অমঙ্গল অকল্যাণ ঠাঁই নবেে না কারো চন্তিায়
সমতার সমাজ হব,ে
সবারই আর্দশ হবে বাংলাদশেরে সইেসব সন্তান
যাঁরা যুদ্ধরে ডাক দয়িিে লো,
যাঁরা অপক্ষোয় আছে আজো একটি বচিাররেÑ
একটি বচিার
যা শষে করার জন্যে
তাঁরা
যুদ্ধরে সইে সব নায়করো
ডাক দয়িে যায়Ñ
জাতরি জন্য,ে জগেে ওঠার জন্যে
ওই জাতরি জন্য;ে যারা ধ্বংসরে মধ্যওে
নতুন জীবনরে ডাক দয়িে যায়;
তুমি কি শুনতে পাও
সইে সব শহীদদরে কন্ঠস্বর
যা প্রতধ্বিনি হচ্ছে বহুদনি ধর?ে
সময় খুব কম
সামনে এগয়িে যাবার
এটাই যর্থাথ সময়Ñ
অবশ্যই বাংলাদশে জগেে উঠবে
সামনরে উজ্জ্বল দনি
মঘে মুক্ত আকাশ
আমার রূপসী বাংলাদশে
এই সময়ে তুমি কোথায়?
কোথায় আর সব
যাঁরা ধাবমান
যাঁরা পছেনওে নতেৃত্বে থাকে
যাঁরা ভয়রে মধ্যে জন্ম গ্রহণ করে
তাঁরা অপক্ষোয় আছ,ে
তুমি ফরিে এসো,
ফরিে এসো সখোন থকেে
ফরিে এসো
আমার বাংলাদশে।

কারা সইে রাজহাঁস

ওরা সমাজকে হত্যা করে
পশেীশক্তি দয়ি,ে
টুকরো টুকরো করে
ধারালো অস্ত্র ও ছুরি দয়িÑে
ওরা চায় রক্ত
ওদরে র্শাটে কাপড়ে মখেে
মানুষকে দখোবে বলÑে
ওরা রক্ত দয়িে রাঙয়িে নয়ে জামা,
রক্তাক্ত, কলঙ্কতি, কাদামাখা;
অথচ কাদা নয়
এ এক মসৃণ যন্ত্রণা;
কন্ঠনালী থকেে
এ যন্ত্রণা গড়য়িে পড়ে রক্তরে মতো
বীভৎসতার শুরু এখান থকেÑে
একটি মসৃণ চাপাতি
হত্যার জন্যে
একটি দা-রামদা
ধারালো, চকচকে
এবং
ক্যামরোয় ছবি উঠতে থাকে
রক্ত ঝরার দৃশ্যরেÑ
ওরা চর্তুদকিে
একজন নচিে
অন্যরা তাকে ঘরিে
ঘুরতে থাকে চক্রাকার,ে
যন্ত্রণার রক্ত ঝরে ঝরে পড়ে
ওদরে ওপরÑে
কারা সইে রাজহাঁস?
ওরা কারা!

ছাড়পত্র

অপক্ষো একটি ছ’এর জন্য,
অপক্ষো একটি র্দীঘ সময়রেÑ
নষ্পিলক তাকয়িে থাকা।
একটি বলরে টক্ িশব্দ,
যদওি বোলার দ্যাখে
সবাই তার ছবি নচ্ছিÑে
ভারি ব্যাট দয়িে
বলটতিে হালকা আঘাত করে
ব্যাট্সম্যান;
প্রভূর চোখ পড়ে তখনি
শষে মুর্হূতে ধরাপরে কশিোর,
আর তখনি বলটি পয়েে যায়
মাঠরে বাইরে যাবার ছাড়পত্র।

বাতঘির

র্দীঘ একটি বছররে শষে,
নতুন বছর শুরুÑ
আভ্যন্তরীণ সৌজন্য, কৌশল
নরিুত্তাপ স্বাধীনতা;
তারকামন্ডতি।
এসো আমরা একসাথে চলি
প্রশান্ততি,ে
ক্ষপ্রিতায় নয়, অথচ বায়,ে
কালরে গৌরবরে
সইে সব তরুণদরে বাতঘির হয়।ে

                                  চত্রৈমাস

একজন বৃদ্ধ
খুবই নঃিসঙ্গ,
অতীতরে রোমন্থন
চলমান পথে
চত্রৈ মাসÑে
ইতস্তত ঘোরাফরো,
শুধুমাত্র শষেরে অপক্ষো,
শুধুই একাকীত্ব,
যদওি একা নয়
যা সে আশা করছেলিো
তা হবে
চত্রৈ মাসÑে

স্বপ্ন

আমি প্রকৌশলী হতে চাই,
যা আমার শল্পিী মা-এর
র্কমরে শকেড়ে শক্তি যোগাবে Ñ
ডাক্তার হতে চাই,
যাতে আমার বাবা মৃত্যুর যন্ত্রণায়
কষ্ট না পানÑ
আমি মৃত্যুর প্রতমর্িূতি হতে চাই,
অসহনীয় জীবনবোধরে জন্যÑে
রাত্রি ও দনিরে পড়াশোনা,
অপক্ষো পরীক্ষার জন্যে
সত্যইি অসহনীয়!

স্বপ্ন

আমার স্বপ্ন উদ্ভাবনী শল্পিী হওয়া,
বাবা-মা এর ইচ্ছাও তাইÑ
স্বপ্ন একজন ডাক্তার হওয়া,
তাঁরা বললনে, এটা চমৎকারÑ
আমার স্বপ্ন উদ্ভাবনী শল্পিী হওয়া,
তাঁরা বললন,ে এটা বস্মিয়কর!

                    শ্রণেি

                    একজন অধঃপততি,
                        অন্যরা উচ্চতায়;
                        সকলইে অধঃপততি,
                        শুধু একজনই উচ্চতায়!

মৃত্যুর ভালোবাসা

সকলইে চলে যাবে
মৃত্যুকে ভালোবসেÑে
সযতœে আগলে রাখে হৃদয়ে
জীবন অথবা মৃত্যুÑ
তারা অস্ত্র নয়িছেলিো

মৃত্যুকে ভালোবসেÑে
খুন হলো একজন,
জীবন অথবা মৃত্যু
সযতœে আগলে রাখে হৃদয়Ñে
হাতে রড তুলে নয়ে
হত্যাকে আয়ত্তে আনত;ে
তাদরে সংকল্প ছলিো
বশ্বিাসরে নতৈকিতায়Ñ

প্রতবিাদ

এখনি সময় প্রতবিাদরেÑ
আমি জামায়াতকে নষিদ্ধি চাই।
আমার প্রতবিাদ
আর্শীবাদ হোক সকলরেÑ
আমি সকল শহীদদরে পক্ষ থকেে
কাদরে মোল­ার
বচিাররে রায় দতিে চাই….

ভাষান্তর: মাকসুদুল আরফেনি

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী (৫ অক্টোবর ১৯৯৫ – ৬ র্মাচ ২০১৩) এবছর ৬র্মাচ বকিলেে নখিােঁজ হয়। এর পরদনি তাঁর এ লভেলে পরীক্ষার ফল প্রকাশতি হয়। পর্দাথবদ্যিা ও রসায়নে বশ্বিরে র্সবােচ্চ নাম্বার পয়েছেনে। তাঁর ওলভেলে পরীক্ষায় পর্দাথবদ্যিায় দশেরে র্সবােচ্চ নাম্বার ছলি। ৮ র্মাচ সকালে নারায়ণগঞ্জরে শীতলক্ষ্যা নদীর কাদাবালি থকেে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। র্দুবৃত্তরা নৃশংসভাবে এ অজাতশত্র“ মধোবী কশিোর কবকিে হত্যা করছে।ে তাঁর ময়নাতদন্ত রপর্িোটে উল­েখ করাহয় হত্যাকারীরা তাঁকে মাথার তনি দকি থকেে আঘাক কর,ে গলা টপিে শ্বাসরোধ করে হত্যা করছে।ে একটি চোখ উপড়ে এনে দহেরে মধ্যভাগরে একটি অঙ্গ থঁেতলে দয়িছে।ে মৃত্যুর পর তাঁর খঁেরো খাতায় পাওয়া যায় গণতি ও পর্দাথ বজ্ঞিানরে সূত্র ও তত্ত¡ের পাশাপাশি বাংলা ও ইংরজেতিে লখো কছিু কবতিা, ভাবনার নবিন্ধতি কছিু কথা ও কাব্যময় বক্ষিপ্তি কছিু ছত্ররে সমাহার। ইংরজেি থকেে এ কবতিাগুলো বাংলায় ভাষান্তর করছেনে মাকসুদুল আরফেনি। এ কবতিাগুলো তাঁর মৃত্যুর মাসদু’এক আগে লখো।