274

মিলেটাস এর থেলিস

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী



প্রাচীন এশিয়ার পশ্চিমাংশে এশিয়া মাইনরে থেলিস ছিলেন একজন ধনী বণিক। তার জন্ম খ্রী:পূ: ৬৩৬ এবং মৃত্যু খ্রী:পূ: ৫৪৬। একজন বণিক হিসেবে তিনি বহুদেশ ভ্রমণ করেছিলেন। এবং অন্য অনেক বণিকের মতোই থেলিসও তাঁর বাণিজ্য থেকে স্থায়ীভাবে অবসর গ্রহণ করেছিলেন। তবে অন্যদের থেকে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি অবসর সময়ে দর্শন ও গণিত শাস্ত্র নিয়ে গবেষণা করতেন। তিন তাঁর ভ্রমণরত অবস্থায় মিশরীয় যাজকদের কাছ থেকে মিশরীয় জ্যামিতি সম্বন্ধে যে বিশদ জ্ঞান অর্জন করেছেন তা তিনি সাগ্রহে নিজের মতো করে গ্রহণ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি গ্রীসে এ বিদ্যার প্রথম প্রবর্তক ও আদিজনক। থেলিস ছিলেন একজন গণিতবিদ ও জ্যোর্তিবিদ। কথিত আছে খ্রী:পূ: ৫৮৫ অব্দে যে সূর্যগ্রহণ সংগঠিত হয়েছিল তা তিনি পূর্বেই দিন ও ক্ষণ গণনা করে বলে দিয়েছিলেন। এ জ্যোর্তিবিদ্যার পারদর্শিতা থেকেই তিনি দেশ-বিদেশে পরিচিতি ও খ্যাতি লাভ করেছিলেন। কথিত আছে এক সন্ধ্যায় পথ চলার সময় তিনি যখন নক্ষত্র ও তারকা মন্ডলী নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছিলেন হঠাৎ করে তিনি ডোবার মধ্যে পড়ে যান এবং এক বৃদ্ধা তাঁকে তিরস্কৃার করেন।

তার একটি বিখ্যাত প্রস্তাবনা হচ্ছে: একটি বৃত্ত তার যেকোন ব্যাস দারা যখন দ্বিখন্ডিত হয়, অথবা সমদিবাহু ত্রিভুজের ভূমি সংলগ্ন কোন দু’টি সমান, অর্ধবৃত্তস্থ কোন এক সমকোন। এ ধরণের আরও কিছু অনন্য প্রস্তাবনা রয়েছে যা থেলিসের রচনা বলে বিবেচনা করা হয়। ঐসব প্রস্তাবনা সাধারণ হলেও তা চিহ্নিত করে প্রসিদ্ধ ঘটনার দ্বারা চিহ্নিতকাল। এগুলো মহিমান্বিত করে সাধারণ সত্যের সাথে মিশরীয় পরিমিতির অনন্ত বর্ণনা। লক্ষ্য করলে দেখাযাবে থেলিস এবং তাঁর জ্যমিতিতে রয়েছে বীজগণিতের প্রকৃত উৎস। থেলিসই প্রথম যিনি প্রমাণ করেন জ্যামিতিক সঞ্চারপথ এবং বক্ররেখার গুরুত্ব। যা বিন্দু দ্বারা নকশা অনুসরণ করে চলে। থেলিস আমাদের কাছে গ্রীক গণিত শাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা ও দর্শনের জনক। একজন দার্শনিক হিসেবে তিনি প্রমাণ করেন বিমূর্ত বা দুর্বোধ্যে অস্তিত্ব। অন্যদিকে তিনি মানব জাতিকে উপহার দিয়েছেন, সমুদ্র থেকে জাহাজের দূরত্বের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দিন ও বৎসরের সঠিক গণনা।

থেলিস আমাদের সামনে হাজির করেন যে, একটি ত্রিভুজ সীমানা নির্দেশ করে যদি এর ভূমি এবং ভূমির কোন দেওয়া হয়। জ্যামিতি সম্পর্কে মিশরীয়দের ধারণা ছিল শুধু এর তল সম্পর্কে। থেলিস হাজির করলেন একটি জ্যামিতি গঠনের বিভিন্ন অংশের সম্পর্ক। যা সঠিক বিচারের মাধ্যমে একটি আদর্শ স্থাপন, যেন তাদের কিছু পাওয়া যায়। অন্যদের দ্বারা শক্ত নিয়মানুবর্তিতে। এটা পৃথিবীতে একটি নতুন নিয়ম ছিল এবং প্রকৃতপক্ষে বিমূর্ত মানুষ গ্রীকদের ও জ্যামিতিতে নতুন স্পন্দনের মাত্রা সংযোজনের পর থেলিসের সাথে উদ্ভব হয়েছিল বৈজ্ঞানিক জ্যোর্তিবিদ্যা। একটি বিমূর্ত বিজ্ঞান এবং সন্দেহাতীতভাবে একটি গ্রীক সৃষ্টি। গ্রীক জ্যোতির্বিদ্যার লক্ষ্য ছিল জ্যোতিষ্ক মন্ডলীর জ্যামিতিক গতির সূত্র আবিষ্কার। থেলিস কখনই মিশরীয় যাজকদের ভুলে যাননি। যাদের কাছ থেকে তিনি মহৎ জ্ঞান লাভ করেছিলেন। বৃদ্ধ বয়সে তিনি তার ছাত্র পিথাগোরাসকে উপদেশ দিয়েছিলেন তাঁদের কাছে যাওয়ার। তাঁর পরামর্শে পিথাগোরাস সেখানে ভ্রমণ করেছিলেন এবং বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। থেলিসের দর্শনের প্রধান বিষয়বস্তু ছিল ‘পানি দর্শন’। ‘পানি থেকেই সমস্ত পদার্থের উৎপত্তি, অর্থাৎ পানি সৃষ্টির মূল উপাদান বা আদি সত্ত্বা এবং সবকিছুই পানির নানা রূপান্তর মাত্র।’ বিষয়টি হচ্ছে যে, যখন কোন বস্তু পানির সাথে তুলনা করা না হয়, তা নিতান্ত সাধারণে পরিণত হয়। যখন গুরুত্বের সাথে তার চেহারার তুলনা করা হয়। তিনি এমাঠটি দেখেছিলেন, তিনি সঠিক প্রশ্নটি করেছিলেন এবং তিনি ক্ষীনজীবীদের নিয়ে মৌলিক অনুসন্ধানের সূচনা করেন।